মানবজাতির দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বদলে দেওয়া ফটোকপি মেশিন বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা অলিগলির স্টেশনারি দোকানগুলোতে অত্যন্ত পরিচিত এক দৃশ্য। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এ যন্ত্রের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তবে ২০১২ সালে এই যন্ত্রকে ঘিরেই এক নজিরবিহীন ঘটনার সূত্রপাত হয়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস এবং টেলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস—বিশ্বখ্যাত এই তিন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ভারতের এক সাধারণ ফটোকপির দোকানমালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইকোনমিকস ক্যাম্পাসে অবস্থিত ‘রামেশ্বরী ফটোকপি সার্ভিস’ নামের একটি দোকানের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনের নালিশ তোলে তারা।
অধিক মূল্যের পাঠ্যপুস্তক কেনা সব শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভবপর হয় না এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠাগারেও বইয়ের সংগ্রহ সীমিত থাকে। ফলে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে গিয়ে সেই দোকানের স্বত্বাধিকারী ধরমপাল সিং মূল্যবান বইগুলোর প্রতিলিপি তৈরি করে দিতেন। মামলা দায়েরের পর প্রথমবারের মতো আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় তাঁকে। আদালত মনোনীত কমিশনার ও আইনজীবীদের দল দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথি জব্দ করে এবং লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। এমন সংকটকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভাবনীয়ভাবে সেই দোকানির পাশে অবস্থান নেন এবং আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁকে নৈতিক সমর্থন জোগান। ধরমপাল সিংয়ের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীদের এই অভূতপূর্ব মানসিক সমর্থনই তাঁকে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে নেওয়ার সাহস জুগিয়েছিল।
টানা চার বছর মামলা চলার পর দিল্লি হাইকোর্ট ঐতিহাসিক এক রায় দেন। ২০১৬ সালের শেষভাগে দেওয়া রায়ে আদালতের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষাসংক্রান্ত প্রয়োজনে বই ফটোকপি করার অধিকার পুরোপুরি বৈধ। এই সিদ্ধান্তের মুখে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা সংস্থাগুলো। বিজয়ের পরও ধরমপাল সিং স্বীয় সেবা অব্যাহত রেখেছেন এবং এখনো শিক্ষার্থীরা চড়া দামের বই না কিনে তাঁর দোকান থেকে স্বল্পমূল্যে শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কেবল সাধারণ ব্যবসা করছি। তিনটি বড় প্রকাশনা সংস্থা চড়াও হলেও হার মানিনি।’ তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।