গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো প্রধান ভরসা হলেও বাস্তব চিত্র এখনো প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। অনেক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে জুনিয়র কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি ওষুধের ঘাটতি, সীমিত ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা, দুর্বল জরুরি সেবা এবং অকেজো যন্ত্রপাতির কারণে বিদ্যমান অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় রূপান্তর করতে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প চূড়ান্তের পথে রয়েছে। নকশাসহ প্রাথমিক রূপরেখা তৈরির পর মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা শেষে এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ প্রশ্ন তুলেছেন, সমস্যা কি শয্যাসংখ্যার, নাকি বিদ্যমান সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহারের?
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জেলা ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ থাকলেও অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যমান শয্যার তুলনায় রোগী ভর্তি থাকে কম। ৫০ শয্যার সক্ষমতাই যেখানে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না, সেখানে সব হাসপাতালকে একযোগে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সবার জন্য একই মডেল প্রযোজ্য নয়। জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানীয় রোগীর চাপ এবং জেলা হাসপাতালের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে শয্যাসংখ্যা নির্ধারণ হওয়া উচিত; কোনোটিতে ৫০, কোনোটিতে ৭৫, ১০১ বা প্রয়োজনভেদে ১৫১ শয্যা হতে পারে।
প্রকল্পের ব্যয়ের বিষয়ে অধ্যাপক হামিদ উল্লেখ করেন, প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল তহবিলের একটি অংশ যদি বিদ্যমান জনবল, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক ও জরুরি সেবার মানোন্নয়নে খরচ করা যেত, তবে জনগণ বেশি সুফল পেত। কারণ নতুন ১০১টি শয্যা যোগ করার অর্থ কেবল ভবন নির্মাণ নয়, এর সঙ্গে চিকিৎসক, কর্মী, ওষুধ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ দীর্ঘমেয়াদি নিয়মিত পরিচালন ব্যয় জড়িয়ে রয়েছে। বড় অবকাঠামো দৃশ্যমান হলেও মানসম্মত সেবার নিশ্চয়তা বিধানই আসল বিষয়। তাই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, সেবার চাহিদা ও ব্যয়-সাশ্রয়িতা বিশ্লেষণ প্রকাশ করা প্রয়োজন। বিদ্যমান ৫০ শয্যাকে শতভাগ কার্যকর না করে আরও শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগের পেছনের কারণগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন এই স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ।