বিশাল এক বটবৃক্ষের ভুয়া বংশপরিচয় তুলে ধরে সে আকাশস্পর্শী শিকড়ের দীর্ঘ উপাখ্যান শুনিয়েছিল। তবে তার ছায়াতলে আশ্রয় প্রার্থনা করতেই বেরিয়ে আসে সত্য; সবুজ অবয়বটি ছিল স্রেফ এক বহিরাবরণ। মূলত তার অভ্যন্তরজুড়ে ছিল এক কণ্টকগ্রহ—সবুজের ছদ্মবেশ ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘকায় এক ক্যাকটাস, যার অন্তরের প্রতিটি কোষে রোপণ করা ছিল গুচ্ছ গুচ্ছ কাঁটা।
তার সেই গুপ্ত চারণভূমির স্পন্দনে স্পন্দনে ছড়িয়ে ছিল ব্যথা, বাক্য, তাল, বিল, স্মৃতি ও মাথাকাঁটার তীব্র যন্ত্রণা। সভ্যতার জিহ্বায় আটকে থাকা অদৃশ্য শূলের পরাগ কিংবা রক্তের ভেতরে জন্ম নেওয়া কণ্টকলিপির পরশে জলও যেন মরুভূমির ভাষা রপ্ত করে নেয় এবং বাতাস নিজেই নির্বাসনে পাঠায় নিজের ফুসফুসকে। পরবর্তীতে পীড়িতের শীৎকার ধ্বনিতে অন্তরের গহ্বর উন্মুক্ত হতেই কণ্ঠনালীর গভীর থেকে বেরিয়ে আসে যুগান্তরের এক অজগর। পরিশেষে বটের মুখোশ খসে পড়তেই নজরে আসে ক্যাকটাসের রক্তস্নাত রূপ; উন্মোচিত হয় আত্মঅহমিকায় গড়ে ওঠা তার সেই নিঃসঙ্গ কণ্টক-উপনিবেশ।