সকালের সেশনের তৃতীয় ওভারে কায়েস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও রক্ষা পান লিটন। সে সময় তিনি ১৪ রানে অপরাজিত, যা অনেকের চোখে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে গণ্য ‘৭’-এর দ্বিগুণ। আবুধাবি টেস্টের গতিপথ অনুযায়ী বাংলাদেশ যখন নিজেদের লিড বাড়িয়ে নিতে ব্যস্ত, তখন এই সুযোগটি লিটনের জন্য দারুণ এক প্রাপ্তি হয়ে আসে। আগের ইনিংসে পঞ্চাশে থামার আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁর নামের পাশে ছিল টানা তিনটি শূন্য (০, ০ এবং ০)। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে নিজের ষষ্ঠ টেস্ট শতকের পর সপ্তম ইনিংসে এসে আজ সপ্তম সেঞ্চুরির (১০২ রান) দেখা পেলেন এই ব্যাটার।
ইনিংসটিতে ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল স্পষ্ট। ব্যক্তিগত ২৬ রানে কায়েসের অফ স্টাম্পের বাইরের হাফ ভলিতে ফিরতি ক্যাচ দিলেও বলের প্রচণ্ড গতির কারণে তা লুফে নিতে পারেননি এই লেগ স্পিনার। ধারাভাষ্যকক্ষে তখন উচ্চারিত হচ্ছিল ‘লাকি লিটন’। পরে আফগানিস্তান নতুন বল নেওয়ার পর ইয়ামিনের বলে লিটন যখন ৬৭ রানে, তখন বল ব্যাটের ভেতরের কানা ছুঁয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে যায়। তবে আম্পায়ার সাড়া দেননি এবং আগেই রিভিউ ফুরিয়ে যাওয়ায় আফগানদের কিছুই করার ছিল না। রিপ্লেতে ঘটনা স্পষ্ট হলে হতাশায় পোড়েন ইয়ামিন, আর লিটনের মুখে দেখা যায় স্বস্তির হাসি। কোনো ছক্কা না হাঁকালেও ইয়ামিনকে মারা দৃষ্টিনন্দন দুটি স্ট্রেট ড্রাইভসহ মোট ১৪টি চারে নিজের ১০২ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি।
১ থেকে ১০-এর মধ্যে সবচেয়ে সহজে মনে রাখার মতো সংখ্যা ৭, যা একই সঙ্গে এই সীমার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাইম নাম্বার। সপ্তাহে সাত দিন, রংধনুর সাত রঙ, সাতটি মহাদেশ কিংবা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সপ্তাশ্চর্যের মতো প্রকৃতিতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। উইকেটকিপার হিসেবে এটি লিটনের ষষ্ঠ টেস্ট শতক, যার মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। উইকেটকিপার হিসেবে ধোনির সেঞ্চুরি সংখ্যাও ছয় এবং কাকতালীয়ভাবে তাঁর জার্সি নম্বর ছিল ৭। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ও ফিফটির পর টানা তিন শূন্যের যে ঋণ তৈরি হয়েছিল, আবুধাবিতে তা দারুণভাবেই শোধ করলেন লিটন।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি গ্লাভস হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন লিটন। গতকাল হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে নেওয়া ক্যাচ কিংবা প্রথম ইনিংসে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে করা স্টাম্পিং ছাড়াও তিনি মোট ছয়টি ক্যাচ নেন। সব মিলিয়ে ম্যাচে তাঁর ডিসমিসাল দাঁড়ায় সাতে, যা লুডোর ছক্কার ঘুঁটির বিপরীত পাশের অঙ্কগুলোর যোগফলের সমান (যেমন ৫ ও ২, ৬ ও ১ কিংবা ৩ ও ৪)। এর মধ্য দিয়ে ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে খালেদ মাহমুদের গড়া এক ম্যাচে বাংলাদেশি উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডেও ভাগ বসালেন তিনি।