ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাস। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তি ও নানা অনিশ্চয়তা পেরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শ্রেণির নবীনবরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে এ সাংস্কৃতিক আয়োজনের পর্দা ওঠে। সেখানে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘হাইওয়ে’র হাসান ইথারের পরিবেশনায় উল্লাসে মাতেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কলেজের মূল ক্যাম্পাস–সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ পর্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের বিরোধিতার মুখে কলেজ কর্তৃপক্ষ নবীনবরণের সাংস্কৃতিক মঞ্চের স্থান পরিবর্তন করে মূল মাঠের বদলে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতে স্থানীয় শিল্পীদের গান পরিবেশনের পর মঞ্চে আসেন ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র হাসান ইথার ও তাঁর দলের সদস্যরা। তিনটি গান পরিবেশনের পর বিকেল সাড়ে চারটায় আসরের নামাজের বিরতি দেওয়া হয় এবং বিরতির পর পুনরায় পরিবেশনা শুরু হয়। বিকেল সোয়া চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত কলেজের মূল ক্যাম্পাস, সংলগ্ন কলেজপাড়ার সড়ক ও দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ছিল বিপুল জনসমাগম। এমনকি অনেকে অর্থনীতি বিভাগের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে উঠে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। নিজেদের কলেজের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এ আয়োজনে অংশ নেন।
দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। গত তিন দিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে আয়োজন সফল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, কলেজ প্রশাসন ও কলেজ ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মাঠের পরিবর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন পর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন। এর আগে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক এবং সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা প্রমুখ। এ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, নবীনবরণে কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়ে গত শনিবার কলেজ অধ্যক্ষের কাছে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। আগের দিন রাতে একই দাবিতে সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামকেও স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি। তবে ছাত্রদল পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে অনড় থাকলে শনিবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে ছাত্রদল ও কওমি ঐক্যের নেতাদের বৈঠকে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাতে জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার জেরে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অনুষ্ঠান পণ্ড হয় এবং ৩০ মে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের বাধার কারণে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়েছিল।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।