advertisement
advertisement

প্রধান বিচারপতির এজলাস ছাড়ার ঘটনায় সংসদে জামায়াত সাংসদ নাজিবুরের উদ্বেগ, আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
প্রধান বিচারপতির এজলাস ছাড়ার ঘটনায় সংসদে জামায়াত সাংসদ নাজিবুরের উদ্বেগ, আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদ

advertisement

আপিল বিভাগের এজলাস থেকে প্রধান বিচারপতির উঠে যাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। বুধবার পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি বিষয়টি তুলে ধরে প্রশ্ন রাখেন, ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল নিয়ে এমন আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা পৌঁছাচ্ছে। একই সঙ্গে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অস্ত্রের মুখে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সাদৃশ্য রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে তিনি আইনমন্ত্রীর বিবৃতি কামনা করেন।

পয়েন্ট অব অর্ডারে আইনজীবী নাজিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার আদালতকক্ষে তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তথ্য গোপন করে বারবার রিট করায় এক আইনজীবীকে জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বাদানুবাদ তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের সব বিচারপতি আদালতকক্ষ ছেড়ে চলে যান এবং সেদিন আর এজলাসে ফেরেননি। তিনি বলেন, খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সরকারদলীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়’ প্রবাদ স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের কোনোটিই এককভাবে সার্বভৌম নয় এবং একটি অপরটির ওপর প্রভাব বিস্তার করা উচিত নয়।

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, আলোচনাযোগ্য হলেও ঘটনাটিতে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি সরাসরি প্রযোজ্য নয়। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন কোনো সাংবিধানিক বা রাষ্ট্রীয় অঙ্গ নয়, বরং একটি অনানুষ্ঠানিক আইনজীবী সংগঠন। ফলে এটি বিচার, আইন কিংবা শাসন বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে এর মাধ্যমে তিনি ঘটনাটিকে ন্যায্যতা দিচ্ছেন না বলেও স্পষ্ট করেন। আদালত অঙ্গনে বার ও বেঞ্চের এমন বিতর্ক হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি আদালত ছাড়ার পর বুধবার আদালত অবমাননার রুল হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। তবে সকাল ৯টায় প্রধান বিচারপতি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং মাহবুব উদ্দিন খোকনও তাঁর আদালতে স্বাভাবিকভাবে মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আইনমন্ত্রী সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের জন্য বিরোধীদলীয় সদস্যকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সবাই এমন পরিস্থিতি পরিহার করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কথা বলতে মাহবুব উদ্দিন খোকন দাঁড়ালে স্পিকার জানান, আইনমন্ত্রীর দেওয়া সুন্দর ব্যাখ্যায় সংসদ আশ্বস্ত হয়েছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর