advertisement
advertisement

লালমাই পাহাড়ে মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
লালমাই পাহাড়ে মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ

নিখোঁজ কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের লাশ আজ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে

advertisement

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের নিথর দেহ লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ও ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের ওই নির্জন স্থানে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাঁশ কাটতে গিয়ে মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী নামের এক স্থানীয় শ্রমিক ও তাঁর সঙ্গীরা প্রথম শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। পরবর্তী সময়ে দুপুর একটার দিকে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত অপ্রতীম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় পরিবারের সঙ্গেই থাকত।

মরদেহটি দেখতে পাওয়ার ঘটনার বর্ণনায় শ্রমিক জিলানী জানান, কাজের জন্য বাঁশ সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ভাতিজা হঠাৎ বলে ওঠে, ‘কাকা, একটা বাচ্চা পড়ে আছে।’ এরপর সেখানে গিয়ে মাথার দিকে রক্ত দেখে তাঁরা ভীষণ ভয় পান এবং কাজ ফেলে রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। সে সময় জিলানীর কাছে সময় দেখার মতো ঘড়ি বা মুঠোফোন না থাকলেও সূর্যের অবস্থান দেখে তাঁর অনুমান, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে তাঁরা শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। জঙ্গল ছেড়ে সড়কে ওঠার পর মামুন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হলে তিনি এক শিক্ষকের সন্তান নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। জিলানী একটি বাচ্চা পড়ে থাকার কথা জানালে মামুন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় সেখানে যান এবং নিশ্চিত হন যে এটিই সেই নিখোঁজ শিক্ষার্থী।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোটবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখছিল পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধারের পর নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র। তবে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে এবং এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর