advertisement
advertisement

উপার্জনে প্রাচুর্য ও বরকত আনতে নবীজি (সা.)-এর নির্দেশিত ৫টি আমল


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
উপার্জনে প্রাচুর্য ও বরকত আনতে নবীজি (সা.)-এর নির্দেশিত ৫টি আমল

advertisement

মানুষ মাত্রই জীবিকার সন্ধানে নিরন্তর ছুটে চলে। তবে শুধু বিপুল অর্থ আহরণ করলেই জীবনে স্বস্তি কিংবা বরকত আসে না। অল্প সম্পদেও পরম কল্যাণ ও মানসিক প্রশান্তির নামই বরকত, যা কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ হয়। দৈনন্দিন জীবনে আয়-উপার্জনে এমন প্রাচুর্য ও কল্যাণ বয়ে আনতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ কিছু কার্যকরী আমলের শিক্ষা দিয়েছেন।

প্রথমত, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা জীবিকা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপায়। কর্মব্যস্ততার অজুহাতে রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করলে সম্পদ ও আয়ু থেকে বরকত বিলুপ্ত হয়। সহিহ বুখারির ২০৬৭ নম্বর হাদিসে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যাশা করে যে তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে চলে।

দ্বিতীয়ত, ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কাজে ফাঁকিবাজি না করে এবং পণ্যের ভালো-মন্দ ক্রেতার সামনে অকপটে প্রকাশ করাই বরকতের মূল ভিত্তি। সাময়িক লাভের আশায় মিথ্যার আশ্রয় নিলে বরকত নষ্ট হয়ে যায়। সহিহ বুখারির ২০৭৯ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের কেনাবেচার চুক্তি বাতিলের অধিকার বহাল থাকে। তারা যদি সত্যনিষ্ঠ থেকে পণ্যের দোষ ও গুণ স্পষ্ট করে দেয়, তবে তাদের কেনাবেচায় বরকত দান করা হয়। পক্ষান্তরে মিথ্যাচার ও পণ্যের ত্রুটি গোপন করলে বাণিজ্যের বরকত মুছে যায়।

তৃতীয়ত, নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা বা ইস্তিগফার করা। পাপের কারণে রিজিক সংকুচিত হলেও তওবার মাধ্যমে জীবিকার রুদ্ধ দ্বার উন্মোচিত হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা নুহের ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে নবী নুহ (আ.)-এর ভাষায় বলা হয়েছে, তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে সহায়তা করবেন। সুনানে আবু দাউদের ১৫১৮ নম্বর হাদিসেও এসেছে, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জন্য অপরিহার্য করে নেয়, আল্লাহ তাকে তার কল্পনাতীত স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন।

চতুর্থত, মুক্তহস্তে দান-সদকা করা। পার্থিব দৃষ্টিতে দান করলে অর্থসম্পদ কমে যায় বলে মনে হলেও ইসলামের বিধানে তা সম্পদে বহুগুণ প্রাচুর্য ও বরকত ডেকে আনে। সহিহ মুসলিমের ২৫৮৮ নম্বর হাদিসে মহানবী (সা.) জানিয়েছেন, সদকা করলে কোনো মানুষের সম্পদ হ্রাস পায় না। হালাল আয় থেকে দরিদ্র ও অভাবীদের সহায়তা করলে মহান আল্লাহ সেই সম্পদের হেফাজত করেন।

পঞ্চমত, প্রত্যুষে বা দিনের শুরুতে কর্মযজ্ঞ শুরু করা। ভোরের স্নিগ্ধতা ও প্রারম্ভিক কর্মতৎপরতায় বিশেষ কল্যাণ রেখেছেন আল্লাহ তাআলা; তাই অলসতায় বেলা করে ঘুম থেকে উঠলে মানুষ সেই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। সুনানে আবু দাউদের ২৬০৬ নম্বর হাদিসে নবী করিম (সা.) দোয়া করেন, হে আল্লাহ, আমার উম্মতের সকাল বেলার কাজে বরকত দিন। এই হাদিসটির বর্ণনাকারী সাহাবি সাখর আল-গামিদি (রা.) পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি রাসুল (সা.)-এর এই প্রার্থনার ওপর ভরসা করে ভোরেই বাণিজ্যিক পণ্য পাঠিয়ে দিতেন, যার ফলস্বরূপ তিনি বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন। হালাল উপায়ে জীবিকা অন্বেষণও একটি বড় ইবাদত; আর এসব আমলের সঙ্গে আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখলে স্বল্প আয়েও অপার মানসিক শান্তি অনুভূত হয়।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর