advertisement
advertisement

খলিলুর রহমানের হাত ধরে জাতিসংঘে আস্থা ও সদিচ্ছা ফিরবে: আশাবাদী আন্তোনিও গুতেরেস


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:২১ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের হাত ধরে জাতিসংঘে আস্থা ও সদিচ্ছা ফিরবে: আশাবাদী আন্তোনিও গুতেরেস

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

advertisement

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিশ্বমঞ্চের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ও সদিচ্ছা ফিরিয়ে আনতে তাঁর নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নতুন সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মহাসচিব উল্লেখ করেন, কূটনীতি, পারস্পরিক সংলাপ ও যৌথ সহযোগিতার পথ ধরে সাধারণ পরিষদ এই আস্থা ফেরাতে পারে, যা বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। গত মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশনের কাজ শুরু করেন, যা জাতিসংঘের অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি হওয়ার এক ঐতিহাসিক গৌরব বয়ে এনেছে। এর আগে তিনি দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধির দায়িত্ব সামলেছেন। এ ছাড়া বিশ্বসংস্থায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার পাশাপাশি তিনি ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

বিদায়ী সভাপতি জার্মানির আনালেনা বেয়ারবকের কাছ থেকে আইসল্যান্ডের তৈরি ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতুড়ি বুঝে নিয়ে খলিলুর রহমান তাঁর এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁর মেয়াদের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: এমন একটি জাতিসংঘ, যা সবার জন্য কাজ করে।’ যুদ্ধ, মানবিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বিশ্ববাসীর বিশ্বাস ফেরানোর প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে এবং নাগরিক সমাজের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে এটি ১৯৪৫ সাল নয়, বরং ৮১তম অধিবেশন; বিশ্ব এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘকেও অগ্রসর হতে হবে এবং তিনি সেই প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেবেন। সব বৈশ্বিক সংকটের সমাধান হয়তো সম্ভব হবে না, তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। দায়িত্ব হস্তান্তরকালে ৮০তম অধিবেশন থেকে ৮১তম অধিবেশনে উত্তরণে ভূমিকা রাখা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

দায়িত্ব হস্তান্তরের এই মুহূর্তকে জটিল আখ্যা দিয়ে মহাসচিব গুতেরেস মন্তব্য করেন, বিশ্ব এখন যুদ্ধ-সংঘাত, ভূরাজনৈতিক বিভেদ, পরমাণু ঝুঁকির আশঙ্কা, স্থায়ী দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং তীব্র জলবায়ু সংকটে জর্জরিত। এমন অস্থির সময়ে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফেরানোই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোগুলো সক্ষমতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি বৈঠকে বিদায়ী সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক জাতিসংঘকে অপ্রাসঙ্গিক ভাবার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংস্থাটির সীমাবদ্ধতা থাকলেও জাতিসংঘ ছাড়া কোনো দেশ বা দিন ভালো থাকতে পারে না। ইউনিসেফ না থাকলে লাখ লাখ শিশুর স্কুলে যাওয়া হতো না এবং শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে নারীরা ধর্ষণের শঙ্কা মুক্ত হয়ে ঘরের বাইরে যাওয়ার সাহস পেতেন না—এমন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি সমালোচকদের জাতিসংঘবিহীন বিকল্প পৃথিবীর কথা ভাবার আহ্বান জানান। একই অনুষ্ঠানে মহাসচিব গুতেরেস বিদায়ী সভাপতি বেয়ারবকের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর