advertisement
advertisement

কাগজে পাকা বাস্তবে কাদা: দশমিনায় এক সড়কের বরাদ্দে সংস্কার হলো অন্য সড়ক


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
কাগজে পাকা বাস্তবে কাদা: দশমিনায় এক সড়কের বরাদ্দে সংস্কার হলো অন্য সড়ক

advertisement

নথিপত্রে সড়কটি পিচঢালাই করা এবং সম্প্রতি এর সংস্কারকাজও সম্পন্ন হয়েছে। কাজের পুরো অর্থও তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সেই কাগজপত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাস্তবে সড়কটি এখনো কর্দমাক্ত ও কাঁচা অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট থেকে রকমান ব্যাপারীবাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০ ফুট চওড়া রাস্তাটির এ বেহাল দশার কারণে তিনটি গ্রামের সাত সহস্রাধিক বাসিন্দা এবং চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ওই সড়ক ঘুরে দেখা যায়, শুকনো কাদায় উঁচু-নিচু হয়ে থাকায় সেখানে রিকশা ও অটোরিকশার মতো বাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেল বা সাইকেল চলাচলেও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। কাঁচা এই সড়কটি দিয়ে বাঁশবাড়িয়া, মধ্য বাঁশবাড়িয়া ও গছানী গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রজ্জবিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মধ্য বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আকরাম খান রেজিস্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে।

এলজিইডির দশমিনা উপজেলা কার্যালয়ের নথি অনুসারে, ৫৭৮৫২৫১৩৩ আইডি নম্বরের এই এক কিলোমিটার সড়কটি বিটুমিনাস কংক্রিট (বিসি) দ্বারা নির্মিত। ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি প্রথমবার পাকা করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা না করে প্রায় ৭০০ মিটার দূরবর্তী চাঁন মিয়া সিকদারবাড়ির অনুমোদনহীন সড়কটি পাকা করা হয়। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও সেতু সংরক্ষণ ও সংস্কার (জিওবি-এম) প্রকল্পের আওতায় সড়কটির জন্য ৩৩ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ টাকা বরাদ্দ আসে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় মেসার্স একতা এন্টারপ্রাইজ। কাগজপত্রে গত ২৩ মার্চ সংস্কারকাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ২৭ এপ্রিল ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হলেও এবারও মূল সড়ক বাদ দিয়ে চাঁন মিয়া সিকদারবাড়ির সড়ক সংস্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনিস খান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. মহিবুল খানসহ অন্তত ১০ জন অভিযোগ করেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে নির্দিষ্ট সড়ক বাদ দিয়ে অন্য একটি সড়ক পাকা করেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) দশমিনা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের অর্থ দিয়ে অনুমোদনহীন সড়ক তৈরির ঘটনায় জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স একতা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাসুদ রানা জানান, দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পেয়ে তিনি উপজেলা প্রকৌশলী ও তদারককারী কর্মকর্তার নির্দেশিত সড়কেই কাজ করেছেন, এতে তাঁর কোনো দায় নেই। অন্যদিকে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমান দাবি করেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে যেখানে কাজ হয়েছিল, তিনি সেখানেই কাজ করিয়েছেন এবং আগের ভুলের কারণে তাঁর কিছু করার ছিল না। দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী এ টি এম সাদিকুর রহমান বলেন, আইডিবিহীন কোনো সড়ক প্রকল্পের অর্থ দিয়ে নির্মাণের সুযোগ নেই। বিষয়টি তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার আগের হওয়ায় তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর