খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়
খুলনা মহানগরীতে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় এক পুলিশ পরিদর্শক মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার প্রেক্ষাপটে জেলা পুলিশের সদস্যদের রাতের বেলা একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব নিরাপত্তা সুরক্ষায় রাতের বেলা একা চলাফেরা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইউনিট ইনচার্জদের বলা হয়েছে এবং জেলা পুলিশের প্রতিটি দপ্তর ও থানায় পত্রটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক প্রথম আলোকে জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রূপসা থানায় পরিচালিত বিশেষ অভিযান শেষে ফেরি পার হয়ে বাসায় ফেরার পথে তাঁদের এক পুলিশ পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন। তিনি সাদাপোশাকে রিকশায় ফিরছিলেন এবং তাঁর কাছে একটি ওয়ালেট ও দুটি মুঠোফোন ছিল। খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের সম্মুখে তিনি ছিনতাইয়ের মুখে পড়েন এবং সম্ভবত বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় এবং তিনি বর্তমানে সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পুলিশ সুপার আরও বলেন, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের নিরাপত্তার কথা ভেবেই রাতের বেলা একা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালন শেষে কেউ ছিনতাইকারীর কবলে না পড়েন। এ নির্দেশের ফলে জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা তৈরি হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এটি মূলত তাঁদের একটি অভ্যন্তরীণ চিঠি, যেখানে সবকিছু বিস্তারিত তুলে ধরা যায় না; কোনো পুলিশ সদস্য যেন ছিনতাইয়ের শিকার না হন, সেই লক্ষ্যেই মূলত চিঠিটি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে খুলনা নগরের খানজাহান আলী রোডের খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ৪৩ বছর বয়সী পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম ছিনতাইকারীদের আক্রমণের শিকার হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রূপসা উপজেলায় বিশেষ অভিযান সমাপ্ত করে তিনি রিকশায় চড়ে নগরের দিকে যাচ্ছিলেন। কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথ আটকে মুঠোফোন ও নগদ অর্থ কেড়ে নেয়। তিনি প্রতিরোধ গড়তে গেলে হামলাকারীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজিতে কোপ মারে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাঠায়।
উল্লেখ্য, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে খুলনা জেলা পুলিশ গত মঙ্গলবার রাত থেকে এই বিশেষ অভিযান কার্যক্রম শুরু করে। এর আগে গত সোমবার রূপসায় ছেলে জয় ঢালী হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পর তাঁর বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং একই দিন দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা এলাকার একটি চায়ের দোকানে আরেক ব্যক্তিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলে পুলিশ এই বিশেষ অভিযান জোরদার করে।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।